হ্যাকাররা যেভাবে ডাটা চুরি করে

আমরা অনেকেই ভাবি হ্যাকিং মানে খুব জটিল কিছু—কোড, কালো স্ক্রিন, অদ্ভুত কমান্ড। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ সময় হ্যাকাররা আমাদের বোকা বানিয়েই ডেটা চুরি করে

এই লেখায় আমি একদম সহজ ভাষায় বলছি—হ্যাকাররা কীভাবে ডেটা চুরি করে এবং আমরা কোথায় ভুল করি।

ফিশিং: সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর

আপনি কখনো এমন মেসেজ পেয়েছেন?

“আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করুন”
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে লগইন না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে”

এই ধরনের মেসেজ বা ইমেইলই ফিশিং। লিংকে ক্লিক করে আপনি যখন লগইন করেন, তখন আসলে ফেসবুক বা গুগলে না—হ্যাকারের বানানো ফেইক সাইটে ঢুকছেন। পাসওয়ার্ড টাইপ করার সাথে সাথেই সেটি তাদের কাছে চলে যায়।

দেখতে আসল, কিন্তু আসলে নকল ওয়েবসাইট

অনেক নকল ওয়েবসাইট এত সুন্দরভাবে বানানো হয় যে আলাদা করা কঠিন। লোগো, ডিজাইন—সবকিছু একদম আসলের মতো।

কিন্তু একটা ছোট পার্থক্য থাকে—ওয়েবসাইটের ঠিকানা (URL)। আমরা তাড়াহুড়ো করে সেটা না দেখেই লগইন করে ফেলি, আর সেখানেই সমস্যা।

দুর্বল পাসওয়ার্ড

বাস্তবে দেখা যায় 123456, password, জন্মতারিখ এগুলো এখনো অনেকেই ব্যবহার করে।

হ্যাকারদের কাছে এমন সফটওয়্যার আছে যা কয়েক সেকেন্ডেই হাজার হাজার পাসওয়ার্ড ট্রাই করতে পারে।
একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায় ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

ফ্রি Wi‑Fi সবসময় ফ্রি না

ক্যাফে বা পাবলিক জায়গার ফ্রি Wi‑Fi ব্যবহার করতে আমরা সবাই পছন্দ করি। কিন্তু এই নেটওয়ার্কে আপনার ডেটা অন্য কেউ দেখছে কি না—তা আপনি জানেন না।

বিশেষ করে ব্যাংক, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন করলে বিপদ হতে পারে।

How-To-Hack_Facebook_zarif-top-Tamim-Zarif-tips.
Safe from Facebook Hack

Cracked Software

“ফ্রি” জিনিসের লোভে আমরা অনেক সময় ক্র্যাকড সফটওয়্যার ব্যবহার করি। কিন্তু এই সফটওয়্যারগুলোর ভেতরে প্রায়ই ভাইরাস বা স্পাইওয়্যার লুকানো থাকে।

এগুলো ধীরে ধীরে আপনার ডেটা সংগ্রহ করে, আপনি টেরও পান না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি তথ্য দেওয়া

ফেসবুকে জন্মদিন, ফোন নম্বর, পড়াশোনার জায়গা—সব কিছু ওপেন রাখলে হ্যাকারদের জন্য আপনার প্রোফাইলটা একটা খোলা বইয়ের মতো হয়ে যায়।

এই তথ্য দিয়েই তারা পাসওয়ার্ড বা সিকিউরিটি প্রশ্ন অনুমান করে।

ভাইরাস ও keylogger

কিছু ভাইরাস আছে যেগুলো আপনি কী টাইপ করছেন সব রেকর্ড করে। ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও।

এই ভাইরাস সাধারণত আসে অজানা ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট বা সন্দেহজনক ডাউনলোড থেকে।

তাহলে নিরাপদ থাকবেন কীভাবে?

  • শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
  • Two‑Factor Authentication (2FA) চালু রাখুন
  • সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলুন
  • ক্র্যাকড সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন না
  • ফোন ও কম্পিউটার আপডেট রাখুন

শেষ কথা

হ্যাকিংয়ের বেশিরভাগ ঘটনা হয় অসচেতনতার কারণে, হ্যাকার খুব জিনিয়াস বলেই না। আমরা যদি একটু সতর্ক হই, তাহলে নিজের ডেটা নিজের হাতেই নিরাপদ রাখা সম্ভব।

লেখাঃ তামিম জারিফ (CSE, DIU)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *